২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। ম্যাচ চলাকালে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা গেলেও লাল কার্ড দেখানো হয়নি তাকে। তবে এর পেছনে রয়েছে ফিফার নতুন নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা।
ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
তার বিদায়ের পরপরই লিওনেল মেসিকে রেফারির কাছে কুকুরেয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে দেখা যায়। মেসির দাবি ছিল, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মুখ ঢেকে কথা বলছেন, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিশ্বকাপের আগে ফিফা এমন একটি নিয়ম চালু করে, যেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বা বাকবিতণ্ডার সময় মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর টুর্নামেন্টে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন এবং ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপি একই কারণে লাল কার্ড দেখেছিলেন।
নতুন এই নিয়ম প্রবর্তনের পেছনে ছিল বেনফিকার সাবেক মিডফিল্ডার জানলুকা প্রেস্তিয়ানিকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক। তার বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ উঠলেও, মুখ ঢেকে কথা বলায় ঘটনার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফিফা নিয়মটি চালু করে।
তবে ফিফার নিয়মে মুখ ঢেকে কথা বলাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডের কারণ নয়।
শাস্তি তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনো উত্তপ্ত বিতর্ক, সংঘর্ষ বা শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বলা হয়।ফাইনালের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুকুরেয়া মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলার সময় অল্প সময়ের জন্য মুখ স্পর্শ করেন। তবে ওই মুহূর্তে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বা আগ্রাসী আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মেসির অভিযোগের পর ঘটনাটি ম্যাচ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন। কিন্তু ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতির প্রমাণ না মেলায় কুকুরেয়াকে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
ম্যাচ কর্মকর্তারা তাকে ‘বেনিফিট অব দ্য ডাউট’ বা সন্দেহের সুবিধা দেন।ফলে বিতর্ক তৈরি হলেও ফিফার নতুন নিয়মের ব্যাখ্যা অনুযায়ী কুকুরেয়ার বিরুদ্ধে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি খুঁজে পাননি ম্যাচ কর্মকর্তারা।
সূত্র: স্পোর্ট বাইবেল