ঝালকাঠির নলছিটিতে গৃহবধূ শিরিন আক্তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৫টায় নলছিটি পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে নিহত শিরিন আক্তারের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এতে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত শিরিন আক্তারের পিতা মো. শাহ আলম মোল্লা, বড় ভাই জাহিদ মোল্লাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
বক্তব্যে মো. শাহ আলম মোল্লা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামাতা এনামুল হক শাহিন, তার বড় বোন ও নানী জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ধীরগতির অভিযোগ তুলে তিনি দ্রুত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নিহতের বড় ভাই জাহিদ মোল্লা বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, মরদেহ ইতোমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তাদের সন্দেহের সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, কেউ শিরিন আক্তারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি।
তার অভিযোগ, হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের দাবিতে এর আগেও শিরিনকে তার স্বামী, নানী-শাশুড়ি ও ননদের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই ভোররাতে বরিশাল মহানগরীর চানমারী মাদ্রাসা গলি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় স্বামী এনামুল হক শাহিন, তার নানী ও বড় বোনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব হোসেন বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বামী এনামুল হক শাহিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।