রাজধানী টাইমস

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে নীতিনির্ধারক ও অংশীদারদের নিয়ে মতবিনিময়



ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে নীতিনির্ধারক ও অংশীদারদের নিয়ে মতবিনিময়

মানবদেহে জিংকের ঘাটতি দূর করে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্প অংশীদারদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘রিয়েক্টস-ইন’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে ইএসডিও।

ইএসডিওর ‘রিয়েক্টস-ইন’ প্রকল্পের ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. ইফতেখায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সারোয়ার মুর্শিদ আহমেদ, হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস (আফ্রিকা)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেনিনা মোউকি, হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. শাহিনুল কবির। 

এছাড়াও জেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের অংশীদাররা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অপুষ্টিজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ মানবদেহে জিংকের ঘাটতি। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে এ ঘাটতির প্রভাব বেশি দেখা যায়। জিংকের অভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো সময়োপযোগী উদ্যোগ।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জিংক সমৃদ্ধ চালের উপকারিতা সম্পর্কে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই গণসচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। তারা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অন্তত একটি করে জিংক সমৃদ্ধ চাল বিক্রির নির্দিষ্ট আউটলেট স্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে সচেতন ভোক্তারা সহজেই এসব চাল সংগ্রহ করে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষকদের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ সহজলভ্য করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধানের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আয়োজকরা জানান, বর্তমানে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রিধান-১০২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান-৮৪ ও ব্রিধান-৭৪ জাতের জিংক সমৃদ্ধ ধান মানবদেহে জিংকের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জাতের আবাদ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভোগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজধানী টাইমস

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে নীতিনির্ধারক ও অংশীদারদের নিয়ে মতবিনিময়

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানবদেহে জিংকের ঘাটতি দূর করে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্প অংশীদারদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘রিয়েক্টস-ইন’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে ইএসডিও।

ইএসডিওর ‘রিয়েক্টস-ইন’ প্রকল্পের ফোকাল কৃষিবিদ মো. আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. ইফতেখায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সারোয়ার মুর্শিদ আহমেদ, হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস (আফ্রিকা)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেনিনা মোউকি, হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ মো. শাহিনুল কবির। 

এছাড়াও জেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের অংশীদাররা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অপুষ্টিজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ মানবদেহে জিংকের ঘাটতি। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে এ ঘাটতির প্রভাব বেশি দেখা যায়। জিংকের অভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো সময়োপযোগী উদ্যোগ।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জিংক সমৃদ্ধ চালের উপকারিতা সম্পর্কে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি হয়নি। তাই গণসচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। তারা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অন্তত একটি করে জিংক সমৃদ্ধ চাল বিক্রির নির্দিষ্ট আউটলেট স্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে সচেতন ভোক্তারা সহজেই এসব চাল সংগ্রহ করে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষকদের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ সহজলভ্য করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধানের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আয়োজকরা জানান, বর্তমানে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রিধান-১০২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান-৮৪ ও ব্রিধান-৭৪ জাতের জিংক সমৃদ্ধ ধান মানবদেহে জিংকের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব জাতের আবাদ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভোগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিংক সমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


রাজধানী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. শাহিদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজধানী টাইমস ২৪