রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপার ভাইজার মৃদুলা বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, রোগী,রোগীর স্বজন ও কলিগদের সাথে দুর্ব্যবহার, অনৈতিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে হাসপাতালে কর্মরত ৪৩ জন নার্সের মধ্যে ২৯ জন নার্স লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে কর্মরত ভুক্তভোগী নার্স, আয়া এবং অন্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার মিসেস মৃদুলা বিশ্বাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি ও ডেলিভারি রুমে নিজের স্বেচ্ছাচারিতায় বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত সু-কৌশলে গোপনীয়তার সাথে গাইনি ডাক্তারের অনুপস্থিতে এম আর এবং ডি এন্ড সি করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চলেছেন। এভাবে তিনি প্রতিনিয়ত অসহায় রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।
এছাড়া চতুরতার সাথে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত দেখিয়ে খাবারের বরাদ্দ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে কর্মরত থাকার সুবাদে স্হানীয়ভাবে তিনি রাজনৈতিক ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। তাদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি তার অপকর্মগুলো ধামাচাপা দিয়ে আসছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এছাড়া প্রায়ই তিনি ডাক্তার, রোগী ও রোগীর লোকের সামনে সহকর্মীদের সাথে অপমানজনক ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন, যা তাদের পেশাগত পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমন কি আয়া ও সুইপারদের সঙ্গে তার আচরণ অনেক সময় অশালীন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা মানষিকভাবে সবাইকে চাপে ফেলছে।
এছাড়া যেনতেন কারনে তিনি পরিবার ও ব্যক্তিগত বিষয় টেনে সহকর্মীদের অপমান করে থাকেন। যা তাদের কাজের পরিবেশকে নষ্ট করছে। অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অপবাদ দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকিও তিনি দিয়ে থাকেন। ডিউটি রোস্টার নিয়েও অনেকের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়া পূর্বের বিভিন্ন ঘটনার জের ধরে তিনি তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।
আলাপকালে কয়েকজন নার্স জানান, তারা মৃদুলা রানীর দূর্বব্যবহারের মানসিক কষ্ট নিয়ে মর্যাদাহীন অবস্থায় এখানে কাজ করছেন। একটা হাসপাতালের প্রাণ হলো নার্স কিন্তু তিনি সবার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন। তবে তার প্রিয় গুটি কয়েক ষ্টাফ সবখানে সুযোগ সুবিধা পায়। এর বাইরে যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধেই নেমে আসে নির্যাতন। অবৈধভাবে ডিএমসি করার জন্য অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজের হাতে রাখেন। এর জন্য তার কাছে আলাদা চাবি থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালে অনেক গুলো নার্স রয়েছে তাদের দেখতে হয়। তাদের সাথে ডিউটি নিয়ে হয়তো মন কষাকষি থাকতে পারে। তবে কারো সাথে কোন খারাপ আচরণ করা হয় না। ওটি রুমে ডিএমসি ও অন্যান্য বিষয়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ মুঠোফোনে জানান, মৃদুলা রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন তিনি হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি ঢাকায় উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের বরাবর পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নার্সদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা, তবে তারা এ বিষয়ে যেকোন ব্যবস্থা নিবেন।