রাজধানী টাইমস

মইনুল হক মৃধা

মইনুল হক মৃধা

রাজবাড়ী


গোয়ালন্দে ছেলের পদক বুকে নিয়ে কাঁদছে "মা", ডুবুরি সাদিকের জানাজা সম্পন্ন

আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই ! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবেনা আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভ'র পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।  সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিনদিন আগে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মোঃ আশরাফ আলী শেখের  ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন। পাশাপাশি সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোল রক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দে সাদিকের পরিচিতি ছিল ব্যাপক।জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের  মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১ টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক হোসেন শুভ (২৬)। সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন তিনি।  পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমীর চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমী সহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোল রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।নিহত সাদিকের চাচা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ফজলুল হক জানান, আমরা জেনেছি সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদীতে ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। ওর সাথে আরো ৩ জন সদস্য ছিলেন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা তল্লাশির পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরের পর তার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।তিনি আরো বলেন, সাদিক নম্র, ভদ্র এবং ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো একটা ছেলে। সাদিক দু'বছর আগে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী সহ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমাদের দাবি সাদিক একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি। সে নদীতে ডুবে মারা যাবে এমনটা হ‌ওয়ার কথা নয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।এর আগে জানাজা নামাজের আগে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সবার চোখ তখন অশ্রুসিক্ত। এসময় ডুবুরি সাদিকের মরদেহে প্রতি শ্রদ্ধা জানান ফায়ার কর্মীরা।

গোয়ালন্দে ছেলের পদক বুকে নিয়ে কাঁদছে