রাজশাহীর পবা উপজেলার তালগাছি এলাকায় সিএনজি চালিত মাহিন্দ্রায় যাত্রীবেশে উঠে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
এসময় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড়, ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় পবা থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা মনি বেগম (৩৮) গত ১২ জুলাই শরীয়তপুরে বাবার বাড়ি থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন সকাল ৭টার দিকে তিনি রাজশাহী রেলস্টেশনে পৌঁছে সিএনজিচালিত মাহিন্দ্রায় বাগমারার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের তালগাছি ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা এক ব্যক্তি ও সিএনজি চালক পরিকল্পিতভাবে তাঁকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলেন।
এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা ও পিঠে আঘাত করা হয়। হামলার সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন, একটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ এবং কাপড়-চোপড়সহ প্রয়োজনীয় মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পবা থানা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম টিম যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযানের পর গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার আলীগঞ্জ এলাকা থেকে মূল আসামি ও সিএনজি চালক ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো চাকুটিও জব্দ করা হয়।
একই মামলার অপর আসামি তরিকুল ইসলামকে একই দিন দিবাগত রাতে নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পবা থানায় মামলা করেছেন।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।