‘পুরনো ধাঁচে’ মেসিকে আটকানোর কৌশলে টুখেলের
মিডফিল্ড কিংবা আক্রমণভাগের সেরা তারকাকে বোতলবন্দী করে রাখতে ছায়ার মতো পিছু নেবেন একজন ‘বডিগার্ড’। স্লেজিং করবেন, উসকানি দেবেন, আর সুযোগ পেলেই করবেন কড়া ট্যাকল—সোনালি অতীতে ইতালিয়ান ফুটবলের চেনা দৃশ্য ছিল এটি। কড়া রক্ষণাত্মক এই কৌশলে তারা সাফল্যও পেয়েছে দুহাত ভরে। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের সেই বিখ্যাত ট্র্যাজেডির কথা কারই বা অজানা! পুরনো দিনের সেই কট্টর ‘ম্যান মার্কিং’ কৌশল এবার লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে প্রয়োগের কথা ভাবছেন ইংল্যান্ডের ডাগআউটে থাকা টমাস টুখেল।চলতি টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮ গোল করা মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা নিয়ে টুখেল বলেন, "আমরা পুরনো ধাঁচের ম্যান মার্কিং পদ্ধতি ফিরিয়ে আনবো কি না, তা নিয়ে ভাবছি। কৌশলটি শেষ পর্যন্ত বেছে নেব কি না নিশ্চিত নই, তবে ভাবনাটি আমার মাথায় রয়েছে।"কাগজে-কলমে বা মুখে মেসির খেলা বর্ণনা করা যতটা সহজ, মাঠে তাকে আটকানো ততটাই কঠিন। ফাঁকা জায়গা পেলেই তিনি বল বাড়িয়ে দেন কিংবা বাঁ প্রান্ত দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তবে টুখেলের মতে, মেসি এ সবের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। তিনি বলেন, "আশা করছি মেসিকে আটকানোর একটা রাস্তা আমরা খুঁজে পাবো। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, আপনি তাকে আটকানোর একটা পথ বের করলে, মেসি মুহূর্তেই অন্য পথ খুঁজে নেবে, নয়তো নতুন পথ তৈরি করে নেবে।"সাবেক পিএসজি ও চেলসির এই কোচের কাছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এই লড়াইটি সবদিক থেকেই ভীষণ স্পেশাল। জার্মানির এই মাস্টারমাইন্ড বলেন, "বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও দারুণ এক দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই বিশেষ কিছু। আর সামনে যখন মেসি ও তার দল থাকে, তখন তো কথাই নেই। এর ওপর ম্যাচটি যখন ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথ, তখন এর রোমাঞ্চ অন্য মাত্রা পায়।"চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার দল সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত। সেমিফাইনালে ওঠা তার শিষ্যরা এখন বড় স্বপ্ন দেখছে। তবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বা ফুটবলীয় দ্বন্দ্বে নতুন করে ঘি ঢালতে চান না তিনি। প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাকে পূর্ণ সম্মান দিয়ে টুখেল তার পুরো মনোযোগ রাখছেন মাঠের লড়াইয়েই।