অপয়া তকমা ঘুচল না স্পিডের, সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি গ্যালারিতেও বিনোদনের কমতি নেই। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত মার্কিন ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার 'আইশোস্পিড' (স্পিড) যেন একাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে—স্পিড মাঠে গিয়ে যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলই হারের তেতো স্বাদ পায়। তবে এবার আর তার সেই 'অপয়া জাদু' খাটল না ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।আজ সকালে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে গ্যালারিতে হাজির হন স্পিড। নেটিজেনদের ধারণা, আলবিসেলেস্তেরা যেন হেরে যায়—সেই উদ্দেশ্য নিয়েই হয়তো তাদের জার্সি পরেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিডের এই নেতিবাচক সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।চলমান বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিভিন্ন ম্যাচে গ্যালারি মাতিয়েছেন স্পিড। মজার বিষয় হলো, এই মার্কিন ব্লগার যে দলের জার্সি পরে মাঠে যেতেন, সেই দলই বিদায় নিত। এই ‘অভিশাপ’ কাটাতে নকআউট পর্বের শুরু থেকে এক নতুন কৌশল বেছে নিয়েছিলেন স্পিড। কোনো একক দলকে সমর্থন না করে দুই দলের জার্সি মিলিয়ে পরা শুরু করেন তিনি। এমনকি ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন কানসাস সিটির ফ্যান ফেস্টেও তাকে দুই দলের মিশ্রিত জার্সি পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্পিড পূর্ণাঙ্গভাবে আর্জেন্টিনার জার্সিই গায়ে চড়িয়েছিলেন। ম্যাচের নবম মিনিটে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের গোলে আর্জেন্টিনা যখন লিড নেয়, তখন ক্যামেরার সামনে হতাশাজনক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন স্পিড। আক্ষেপের সুরে তাকে বলতে শোনা যায়, "কী হচ্ছে এসব? কোনো কিছুই তো কাজ করছে না! এখন আমার কী করা উচিত?"১-০ তে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর, ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদয়ের গোলে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। সুইসদের এই গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন স্পিড। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে তার চোখে-মুখে আনন্দের আভাস দেখা যায়। তবে ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের চোখ ধাঁধানো গোলে আর্জেন্টিনা আবারও এগিয়ে গেলে স্পিডের সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আলভারেসের গোলের পর মুহূর্তেই স্পিডের সব উচ্ছ্বাস স্তব্ধ হয়ে যায়। ম্যাচের একদম শেষ দিকে লাউতারো মার্তিনেস আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোলটি করার পর স্পিড আর গ্যালারিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশি বাজার আগেই চরম হতাশা নিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর।