সদ্য বিলুপ্ত সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসের রাজনীতি এখন উত্তাল। নতুন কমিটিতে কার কাঁধে উঠবে শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ব্যাপক আলোচনা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের একটাই স্পষ্ট বার্তা: পদ-পদবি সর্বস্ব রাজনীতি নয়, বরং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ ত্যাগী ও পরীক্ষিত তরুণ মুখগুলোকেই দেখতে চান তারা। আর এই আলোচনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নোবেল ইসলাম সূর্য।
২০১২ থেকে আজ অবধি: দীর্ঘ আপসহীন রাজনৈতিক যাত্রা
২০১২ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় নোবেল ইসলাম সূর্যের। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে হামলা, মামলা, দমন-পীড়নের শিকার হয়েও তিনি আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করেননি; বরং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে থেকে টিকিয়ে রেখেছেন সংগঠনের তৎপরতা।
গুম, রিমান্ড ও অমানবিক নির্যাতনের রোমহর্ষক অধ্যায়
ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়নের দিনগুলোতে রাজপথের অন্যতম অগ্রগামী মুখ ছিলেন সূর্য। ২০২৩ সালের শেষের দিকে তৎকালীন স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী ঢাকা সিএমএম কোর্ট চত্বর থেকে সাদা পোশাকে তাকে তুলে নেয়।
- ৩ দিনের ভয়াবহ গুম ও নির্যাতন: ডিবি ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে একটানা ৩ দিন তাকে সম্পূর্ণ গুম রেখে চালানো হয় চরম অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
- কারাবাস ও রিমান্ডের কষ্ট: পরবর্তীতে সাজানো মামলায় তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। টানা ৬০ দিনের জেল ও রিমান্ডের বর্বরোচিত নির্যাতন সহ্য করে অত্যন্ত নাজুক ও ভাঙা শরীর নিয়ে তিনি কারামুক্ত হন।
দমে যাননি লড়াকু সৈনিক: জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে
কারামুক্তির পর শারীরিক ক্ষত তাকে একটুও দমাতে পারেনি। বরং নতুন উদ্যমে তিনি জড়িয়ে পড়েন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিশাল কর্মী-সমর্থক নিয়ে তিনি সরাসরি রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শেখ হাসিনার পতনের ১ দফা দাবি আদায়ে তিতুমীর কলেজের প্রতিটি রণাঙ্গনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন এই লড়াকু সৈনিক।
আগামীর ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সূর্যের ভাবনা
আগামী দিনের ছাত্ররাজনীতির রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে নোবেল ইসলাম সূর্য দৃঢ়তার সাথে জানান: "আমরা তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলে এমন নেতৃত্ব চাই, যার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা আছে। যে জ্ঞানভিত্তিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মীবান্ধব রাজনীতির চর্চা করবে। নেতৃত্বের আসনে তাকেই মানায় যে হবে সৎ, পরিশ্রমী ও মেধা—এবং একই সাথে বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে যার ছিল অগ্রগামী ও ত্যাগের রেকর্ড।"
সাধারণ কর্মীদের আশার আলো:
বছরের পর বছর হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও গুমের বিভীষিকা পেরিয়ে যিনি আদর্শচ্যুত হননি, সেই নোবেল ইসলাম সূর্যকে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন তিতুমীর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মীরা। সবার আশা, রাজপথের পরীক্ষিত এই ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতাই হবেন তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নতুন দিশারী, যিনি সূচনা করবেন এক আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতির।