ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রাজধানী টাইমস

মির্জাগঞ্জে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে



মির্জাগঞ্জে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে
ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ‘খাল খনন’ প্রকল্প কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও কোনো প্রকার শ্রমিকের উপস্থিতি ছাড়াই এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নেওয়া খাল খননে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সক্সকাভেটর।

খালের দু'পাশের মাটি পানির মধ্যে থেকে ভেকু মেশিনে উঠালেও খালের মধ্যেভাগের মাটি খালেই রয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে খালে নেমে যাবে। এমন ঘটনা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ও কাকাড়াবুনিয়া ইউনিয়নে। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খালের গোড়া হতে ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় হয়ে পশ্চিম দিকে কাটাখালী মোল্লার খাল (ভায়া ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে ছৈলাবুনিয়া চার হাওলা বাইতুন নুর জামে মসজিদ হতে কিছলু মোল্লার বাড়ী) পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১৭৮ জন অতিদরিদ্র মানুষের কাজ পাওয়ার কথা ছিল। যার মাধ্যমে দূর হবে কৃষিজমির জলাবদ্ধতা এবং সচল হবে পানি নিষ্কাশনের পথ। 

কিন্তু অসময়ে খাল খনন প্রকল্প এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়ন নয়, বরং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এটি যেন 'খাল পুনঃখনন নয়, খাল চুরির প্রকল্প'। খালের নরম মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে খালের পাড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু অতি বৃষ্টির সময়ে খালের মাটি ধুয়ে খালেই নেমে যাবে। খাল খনন এলাকার মাণুষের তেমন কোন উপকারে আসবে না। 

সরেজমিনে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খাল খনন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়,সেখানে দুটি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে পুরোদমে খননকাজ চলছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটিতে ১৭৮জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কাজের সময়ে মাঠে কোন শ্রমিককে দেখা যায়নি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সক্সকাভেটর। তাহলে শ্রমিকরা কি পেলো।  আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খালের গোড়া হতে ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় হয়ে পশ্চিম দিকে কাটাখালী মোল্লার খাল (ভায়া ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে ছৈলাবুনিয়া চার হাওলা বাইতুন নুর জামে মসজিদ হতে কিছলু মোল্লার বাড়ী) পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন প্রকল্পটি কাগজে কলমে শুরু হয় ৩০ এপ্রিল। শেষ হয়য়ার কথা ২১ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি।

কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭৭  লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা ছিল শ্রমিকদের মজুরির জন্য। বাকি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় এক্সক্সকাভেটর পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প এলাকায় পুরো কাজই হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। 

তথ্য মতে খালের গভীরতা ১০ ফুট, তলদেশ ১২ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়রা আরো জানান, ছৈলাবুনিয়া সরকারি প্রথামকি বিদ্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে খালের দু’পাশের মাটি কাটা হয়েছে ভেকু দিয়ে। পানির মধ্যে দিয়ে ভেকু যে পরিমান মাটি তুলতে পারছে ততটুবু কাটা হয়েছে। আর ভিতরের অংশের মাটি খালে রয়ে গেছে। তারা বলেন এটা তো খাল খনন নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, বৃষ্টির সময়ে খাল কাটা যায়। বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে যায়। তাও সেচ দিয়ে চেষ্টা করেও কোন কাজ হয়নি।

 প্রকল্পের সভাপতি ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,খাল কাটা প্রকল্পের কাজের বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ভাল বলতে পারবেন। আমি নামে মাত্র আছি।

 তিনি আরো বলেন, শ্রমিকও আছে তবে ভেকু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.ইলিয়াস মিয়া জানান, ভেকু মেশিন দিয়ে খাল কাটা হচ্ছে। খালের কাজ হচ্ছে পরে কথা বলি বলে লাইন কেটে দেন। তবে খাল খননে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

রাজধানী টাইমস

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


মির্জাগঞ্জে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ‘খাল খনন’ প্রকল্প কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও কোনো প্রকার শ্রমিকের উপস্থিতি ছাড়াই এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নেওয়া খাল খননে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সক্সকাভেটর।

খালের দু'পাশের মাটি পানির মধ্যে থেকে ভেকু মেশিনে উঠালেও খালের মধ্যেভাগের মাটি খালেই রয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে খালে নেমে যাবে। এমন ঘটনা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ও কাকাড়াবুনিয়া ইউনিয়নে। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খালের গোড়া হতে ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় হয়ে পশ্চিম দিকে কাটাখালী মোল্লার খাল (ভায়া ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে ছৈলাবুনিয়া চার হাওলা বাইতুন নুর জামে মসজিদ হতে কিছলু মোল্লার বাড়ী) পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন প্রকল্পে কাগজে-কলমে ১৭৮ জন অতিদরিদ্র মানুষের কাজ পাওয়ার কথা ছিল। যার মাধ্যমে দূর হবে কৃষিজমির জলাবদ্ধতা এবং সচল হবে পানি নিষ্কাশনের পথ। 

কিন্তু অসময়ে খাল খনন প্রকল্প এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়ন নয়, বরং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এটি যেন 'খাল পুনঃখনন নয়, খাল চুরির প্রকল্প'। খালের নরম মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে উঠিয়ে খালের পাড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু অতি বৃষ্টির সময়ে খালের মাটি ধুয়ে খালেই নেমে যাবে। খাল খনন এলাকার মাণুষের তেমন কোন উপকারে আসবে না। 

সরেজমিনে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খাল খনন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়,সেখানে দুটি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে পুরোদমে খননকাজ চলছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটিতে ১৭৮জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কাজের সময়ে মাঠে কোন শ্রমিককে দেখা যায়নি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সক্সকাভেটর। তাহলে শ্রমিকরা কি পেলো।  আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া খালের গোড়া হতে ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় হয়ে পশ্চিম দিকে কাটাখালী মোল্লার খাল (ভায়া ছৈলাবুনিয়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে ছৈলাবুনিয়া চার হাওলা বাইতুন নুর জামে মসজিদ হতে কিছলু মোল্লার বাড়ী) পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন প্রকল্পটি কাগজে কলমে শুরু হয় ৩০ এপ্রিল। শেষ হয়য়ার কথা ২১ জুন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি।

কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭৭  লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা ছিল শ্রমিকদের মজুরির জন্য। বাকি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় এক্সক্সকাভেটর পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের জন্য। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প এলাকায় পুরো কাজই হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে। মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। 

তথ্য মতে খালের গভীরতা ১০ ফুট, তলদেশ ১২ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়রা আরো জানান, ছৈলাবুনিয়া সরকারি প্রথামকি বিদ্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে খালের দু’পাশের মাটি কাটা হয়েছে ভেকু দিয়ে। পানির মধ্যে দিয়ে ভেকু যে পরিমান মাটি তুলতে পারছে ততটুবু কাটা হয়েছে। আর ভিতরের অংশের মাটি খালে রয়ে গেছে। তারা বলেন এটা তো খাল খনন নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, বৃষ্টির সময়ে খাল কাটা যায়। বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে যায়। তাও সেচ দিয়ে চেষ্টা করেও কোন কাজ হয়নি।

 প্রকল্পের সভাপতি ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান,খাল কাটা প্রকল্পের কাজের বিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ভাল বলতে পারবেন। আমি নামে মাত্র আছি।

 তিনি আরো বলেন, শ্রমিকও আছে তবে ভেকু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.ইলিয়াস মিয়া জানান, ভেকু মেশিন দিয়ে খাল কাটা হচ্ছে। খালের কাজ হচ্ছে পরে কথা বলি বলে লাইন কেটে দেন। তবে খাল খননে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।


রাজধানী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. শাহিদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজধানী টাইমস ২৪