চুয়াডাঙ্গায় কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় একাধিক বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ঋণের কিস্তির চাপ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সুবরেক আলী (৪৮) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাতে দর্শনা থানাধীন তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া মাঠপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুবরেক আলী ওই গ্রামের মৃত জান মহাম্মদের ছেলে।স্থায়ী সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের মতে, জীবিকা নির্বাহ ও পারিবারিক প্রয়োজনে সুবরেক আলী ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, ওয়েব ফাউন্ডেশন, জাগরণী ফাউন্ডেশন, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও সিইও ফাউন্ডেশনসহ বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেন। সম্প্রতি ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা তার পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।স্বজনদের অভিযোগ, পাওনা কিস্তি আদায়ে এনজিও প্রতিনিধিরা প্রতিদিন তার বাড়িতে এসে কঠোর চাপ সৃষ্টি করতেন এবং কিস্তি না দিতে পেরে তিনি চরম মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হন। একাধিক এনজিওর কিস্তি পরিশোধের তাগাদা ও ধারাবাহিক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শনিবার ভোররাতে সুবরেক নিজ বাড়ির পাশের একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের কোনো প্রকার আপত্তি না থাকায় এবং মানবিক দিক বিবেচনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি এনজিওগুলোর কিস্তি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।