রাজধানী টাইমস

মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নখ তুলে ফেলার হুমকি



মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নখ তুলে ফেলার হুমকি
চুরির অভিযোগে রাজশাহীতে গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম রিফাত (১৪) নামের এক কিশোরকে গাছে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন চলাকালে কিশোরটির হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের মহিপাড়া গ্রামে এ বর্বরতার ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত রিফাত ওই ইউনিয়নের খাসখামার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে মহিপাড়া গ্রামে নানির বাড়িতে থাকত।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতকে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ভিডিওতে রিফাতকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, তার বাবা তাকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এ কথা শুনে উপস্থিত লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হাঁসুয়া এনে তার নখ কেটে ফেলার হুমকি দেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রিফাতের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ২০ দিন আগে একটি মোবাইল ও ৯০০ টাকা নিয়ে রিফাত ঢাকায় চলে যায়। গত পাঁচ দিন আগে সে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে। শুক্রবার সকালে মহিপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেলা ১১টার দিকে রেখে যায়।

আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "আমার ছেলেকে গাছে বেঁধে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। সে এক গ্লাস পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি।" এ ঘটনা চাপিয়ে দিতে সন্ধ্যায় একটি সালিস বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্যাতনের শিকার রিফাত জানায়, বাবু হোসেন ও রাজীব নামে দুজন তাকে মারধর করেছে এবং ভয়ে বাবার নাম বলতে বাধ্য করেছে। সে মোবাইলটি চুরির পর ঢাকার একটি দোকানে রেখেছিল এবং টাকাগুলো খাবারের পেছনে খরচ করেছে বলে স্বীকার করে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবু হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও অবহিত নন। তবে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : জেলার খবর চুরি নির্যাতন রাজশাহী জেলা কিশোর দুর্গাপুর (রাজশাহী)

রাজধানী টাইমস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, নখ তুলে ফেলার হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে রিয়াজুল ইসলাম রিফাত (১৪) নামের এক কিশোরকে গাছে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন চলাকালে কিশোরটির হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনার একটি ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের মহিপাড়া গ্রামে এ বর্বরতার ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত রিফাত ওই ইউনিয়নের খাসখামার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে মহিপাড়া গ্রামে নানির বাড়িতে থাকত।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতকে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ভিডিওতে রিফাতকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, তার বাবা তাকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এ কথা শুনে উপস্থিত লোকজন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হাঁসুয়া এনে তার নখ কেটে ফেলার হুমকি দেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রিফাতের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ২০ দিন আগে একটি মোবাইল ও ৯০০ টাকা নিয়ে রিফাত ঢাকায় চলে যায়। গত পাঁচ দিন আগে সে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরে। শুক্রবার সকালে মহিপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেলা ১১টার দিকে রেখে যায়।

আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "আমার ছেলেকে গাছে বেঁধে মারধর ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। সে এক গ্লাস পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি।" এ ঘটনা চাপিয়ে দিতে সন্ধ্যায় একটি সালিস বৈঠক ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্যাতনের শিকার রিফাত জানায়, বাবু হোসেন ও রাজীব নামে দুজন তাকে মারধর করেছে এবং ভয়ে বাবার নাম বলতে বাধ্য করেছে। সে মোবাইলটি চুরির পর ঢাকার একটি দোকানে রেখেছিল এবং টাকাগুলো খাবারের পেছনে খরচ করেছে বলে স্বীকার করে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবু হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও অবহিত নন। তবে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজধানী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. শাহিদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজধানী টাইমস ২৪