রোববার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শিশুর সাথে আছে তরুণীও।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মারা গেছেন আরও তিন জন। মৃতদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণবারী ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মো. এহসানুল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ১৮ বছর বয়সী বর্ণা রানী দাস বানিয়াচং উপজেলার এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৮ মাস বয়সী আয়ান সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ৭ আগস্ট সিলেট বিভাগে ২ শিশুর মৃত্যু হলেও ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এক দিন পর ৯ আগস্টের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে। মৃত ১২৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয় জনের। বাকি ১১৯ জন মারা গেছেন হাম উপসর্গ নিয়ে।
জেলা ভিত্তিক মৃতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে ৪৪, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯১, হবিগঞ্জে ১০৩, মৌলভীবাজারে ১০২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের শনাক্তদের মধ্যে দু’জন রুবেলা আক্রান্ত।
সিলেটের ডেপুটী সিভিল সার্জন ডা. জন্মে জয় শংকর দত্ত জানান, সিলেটে একজন করোনা রোগী শনাক্ত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে হামে মৃত্যুর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্কদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর বিষয়টি আরও উদ্বেগের বিষয়। হাম উপসর্গে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেই টিকা নেয়নি। টিকা ক্যাম্পেইন চলাকালে হয়তো স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি, নয়তো অভিভাবকরা টিকা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ডেঙ্গুর বিষয়টি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।