ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
রাজধানী টাইমস

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর চরহামুয়া ও রাধাপুরে ভাঙ্গন: কয়েক গ্রাম প্লাবিত



হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর চরহামুয়া ও রাধাপুরে ভাঙ্গন: কয়েক গ্রাম প্লাবিত

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ জেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে, নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারত নেমে আসা পানিতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের কালিগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

ভাঙ্গা স্থানগুলো দিয়ে দ্রুত বেগে পানি প্রবাহিত হয়ে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। কালিগঞ্জ এলাকার মানুষের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাধাপুর ও বৃহস্পতিবার রাতে কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। রাতে স্থানীয় লোকজন গবাদি পশুসহ মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে জেলার কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীগুলোতেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অব্যাহতভাবে বাড়ছে কালনী, কুশিয়ারা, সুতাং, সোনাইসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের দক্ষিণ চরহামুয়ার কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাধের নিকট থেকে ড্রেজার ও এস্কেভেটর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হয়। এ কারণে বাধ দুর্বল হয়ে পড়ায় ওই এলাকায় বাধে ভাঙ্গণ দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহবুর রহমান, আব্দুর রহমান, শাহজাহান মিয়া নামে কয়েকজন সহযোগিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদীর ভেতর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি বালু মাটি তুলে খোয়াই নদীর বাধ কেটে ট্টাক্টর দিয়ে মাটি ব্যবসা করে আসছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো হুমকী দেয়া হয়েছে। যার ফলে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

বৈদ্যের বাজারের ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, তার ১২শ মন ধান দোকানে মজুদ ছিল। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে, খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের ভাদৈই ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত খোয়াই নদীর ২টি স্থান ভেঙ্গেছে। আরও কয়েকটি স্থান ভাঙ্গনের আশংকা রয়েছে। তবে আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীগুলোতে পানি কমে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে বস্তা দিয়ে মাটি ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাউল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। এর মাঝে বিভিন্ন উপজেলায় ১৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপবরাদ্দ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজান এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২৫ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করাঙ্গী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজধানী টাইমস

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর চরহামুয়া ও রাধাপুরে ভাঙ্গন: কয়েক গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ জেলায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে, নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারত নেমে আসা পানিতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের কালিগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

ভাঙ্গা স্থানগুলো দিয়ে দ্রুত বেগে পানি প্রবাহিত হয়ে লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। কালিগঞ্জ এলাকার মানুষের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাধাপুর ও বৃহস্পতিবার রাতে কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যায়। রাতে স্থানীয় লোকজন গবাদি পশুসহ মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে জেলার কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীগুলোতেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অব্যাহতভাবে বাড়ছে কালনী, কুশিয়ারা, সুতাং, সোনাইসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুরের দক্ষিণ চরহামুয়ার কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাধের নিকট থেকে ড্রেজার ও এস্কেভেটর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হয়। এ কারণে বাধ দুর্বল হয়ে পড়ায় ওই এলাকায় বাধে ভাঙ্গণ দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহবুর রহমান, আব্দুর রহমান, শাহজাহান মিয়া নামে কয়েকজন সহযোগিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদীর ভেতর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি বালু মাটি তুলে খোয়াই নদীর বাধ কেটে ট্টাক্টর দিয়ে মাটি ব্যবসা করে আসছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো হুমকী দেয়া হয়েছে। যার ফলে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

বৈদ্যের বাজারের ধান ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, তার ১২শ মন ধান দোকানে মজুদ ছিল। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে, খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের ভাদৈই ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত খোয়াই নদীর ২টি স্থান ভেঙ্গেছে। আরও কয়েকটি স্থান ভাঙ্গনের আশংকা রয়েছে। তবে আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীগুলোতে পানি কমে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে বস্তা দিয়ে মাটি ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাউল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। এর মাঝে বিভিন্ন উপজেলায় ১৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপবরাদ্দ করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজান এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২৫ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করাঙ্গী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।


রাজধানী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. শাহিদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজধানী টাইমস ২৪