গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউওনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে দৌলতদিয়া ঘাটে কোন কাউন্টার থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা দেখবো না কোনটা মৌসুমী বা অন্য কোন কাউন্টার। অথবা এই কাজে যে জড়িত থাকবে আমরা তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল দিয়ে দিবো। কোন অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী হয়রানি করা যাবেনা। এছাড়াও ঘাটে সর্বক্ষণিক জেলা প্রশাসক সহ উপজেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের টিম থাকবে।
রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা সভাকক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল ফিতর- ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ সার্ভিস সহ সকল যানবাহনের সুষ্ঠ চলাচল ও যাত্রীসাধারনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার লক্ষে সমন্বয় সভায় ইউএনও এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে এবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচল করবে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ। প্রত্যেকটি বাস কাউন্টারের সামনে বড় ব্যানারে ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দিতে হবে এবং ঘাটের মূল মূল পয়েন্টেও এই তালিকা টানাতে হবে। প্রত্যেকটি বাস সহ অন্যান্য যানবাহনের ফিটনেস ঠিক রাখতে হবে। বাসের গায়ে যে রুটে চলাচল করবে তার একটি স্টিকার লাগাতে হবে। আরও বলেন, ফেরির মধ্যে কোন খাবারের দাম অতিরিক্ত নেওয়া যাবেনা। ঘাটে একটি রেকার থাকবে যেন কোন যানবাহনের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সেটা সরানো যায়। ঘাটের নির্দিষ্ট স্থানে মাহিন্দ্র রাখতে হবে। মূল সড়কের মধ্যে এলোপাথাড়ি ভাবে কোন যানবাহন রাখা যাবেনা সেটা বাস বা মাহিন্দ্র যেটাই হোক। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্স বিহীন লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোন টাকা নেয়া যাবেনা। ঈদের আগে-পরে ৫ দিন করে ১০ দিন নৌ- চ্যানেলে ইঞ্চিন চালিত ট্রলার, মাছ ধরা ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি সর্বশেষ ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে ও স্বস্তির করতে সকলের সর্বাত্নাক সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় ইউএনও নাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আসাদুজ্জামান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি তদন্ত উত্তম কুমার ঘোষ,
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সেলিম শেখ, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জুয়েল, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি আঃ রশিদ, রাজবাড়ী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা সহ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা প্রমুখ।
এসময় বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডবব্লিউটিসি কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন ঈদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে কয়েকটি ফেরি বাড়িয়ে ১৭টি ফেরি, ৩টি ঘাটের মধ্যে (৩, ৪ ও ৭) ৮টি পকেট যানবাহন পারাপার হবে এবং ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। যার প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
এছাড়া ঘাট এলাকা যানজটমুক্ত এবং দালাল, ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, যাত্রী হয়রানি রোধে থাকবে জেলা পুলিশের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে ঘাট এলাকায় আলোকসজ্জা, অস্থায়ী টয়লেট, মাতৃদুগ্ধ কেন্দ্রসহ থাকবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি তদন্ত উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, যাত্রী হয়রানি, ছিনতাই, মলমপার্টি, দালাল, যানজট নিয়ন্ত্রণ রোধে ঘাট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ইতিমধ্যে ঘাট এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ যানবাহন চলাচলেও নজরদারি করা হবে এবং সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে পুলিশ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি যাত্রী, সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে।