রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথ পাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম (হ্যাচারী) নামে একটি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১ টার দিকে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রাশিদুল ইসলাম, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প 'খাল পুনঃখনন কর্মসূচীর' আওতায় গত ১২ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উজানচর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা। এছাড়া উজানচর হাবিল মন্ডল পাড়া কালামের বাড়ি থেকে ফৈজদ্দিন মাতব্বর পাড়া সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত ০ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার খাল ২৭ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ উদ্বোধন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় উজানচর বেরিবাঁধ প্রকল্পে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জানা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই খালের উপর গড়ে উঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম মালিককে বারবার নোটিশ করার পরেও তারা স্থাপনা স্থানান্তর না করার কারণে আজকের এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের উপর নির্মিত দুটি মুরগীর ফার্ম তৈরির কারনে এখানে যারা বসবাস করে তাদের ফার্মের দুর্গন্ধে অনেক ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। এছাড়া খালের পুনঃখনন কাজ শেষ হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার পরিবেশেরও উন্নয়ন ঘটবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের কে মৌখিক ভাবে একমাস আগে বলেছে এবং চেয়ারম্যান ও বার বার বলেছে সরাতে। মুরগীগুলো ফার্মে থাকার কারনে দ্রুত ফার্ম সরানো হয়নি। তবে আজ আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় নিয়েছি, যেন মুরগী গুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে এবং ঘরগুলো যেন এখান থেকে সরিয়ে নিতে পারি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প হচ্ছে খালখনন। আপনারা জানেন আমাদের উপজেলা উজানচরে দুটি খাল পুনঃ খননের কাজ চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় উজানচর বেরিবাঁধ প্রকল্পে খালের উপর অবৈধভাবে দুটি ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে। যাদের আমরা প্রশাসনের পক্ষ হতে বারবার বলার পরেও তারা স্থাপনা অপসারন করেনি। এজন্য আজ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে খালখননের জায়গা থেকে সকল ঘরের অংশ ভেঙে পরিস্কার করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে ও পরিবেশ রক্ষায় খাল উদ্ধার অভিযানে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।