হলে তোলার নামে হয়রানি, হল গেইটে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অবৈধভাবে থাকা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আসন থেকে নামিয়ে সেখানে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হল প্রশাসন।

এ জন্য শুক্রবার (০১ জুলাই) বিকেল চারটা দিকে হলটিতে অভিযান চালানোর কথা জানান প্রাধ্যক্ষ। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা অবধি (রাত সাড়ে ৮টা) অভিযান শুরু করেনি হল প্রশাসন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিছানাপত্র নিয়ে হল গেইটে অবস্থান নিয়েছেন হলে উঠতে ইচ্ছুক আবাসিক শিক্ষার্থীরা। হল প্রশাসনের এমন কাজকে হলে তোলার নামে হয়রানি বলছেন তারা।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলছেন, যারা হলে ওঠার জন্য আসছে তাদের সবাইকেই হলে তুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল, সহকারী প্রক্টর মো. মনিরুজ্জামন, ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূরসহ আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করা হচ্ছে। মিটিং শুরুর আগে সেখান থেকে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলেন প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে অবৈধ শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় হল প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হয়েছে ছাত্রলীগ। তারা বলছেন, হল প্রভোস্ট সাবেক ছাত্রদল নেতা। তিনি আবাসিকতার আবেদন করা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় তাদেরকে আবাসিকতা দেওয়া হয়নি। হল প্রাধ্যক্ষ হল থেকে ছাত্রলীগ বের করে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় বলেও অভিযোগ তাদের।

হল সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৯৪টি আসন খালি হয়। এরপর হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করে ভাইভা নিয়ে অ্যাকাডেমিক ফলাফল ও অন্যান্য বিবেচনায় ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে হলে আসন বরাদ্দ দেয়। তবে এই ৬৬ জনের মধ্যে মাত্র ২২ জনকে তাঁদের আসনে তুলতে পেরেছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত ৯৪টি আসনের বিপরীতে ৭২টি দখল হয়ে আছে। বৈধভাবে যাদের আসন দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও অনাবাসিক দখলদারদের দ্বারা হুমকি পাচ্ছেন। এমনকি হল থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এর প্রক্ষিতে গত ২৩ জুন হল শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর করা একটি নোটিশের মাধ্যমে হলে অবস্থান করা অনাবাসিক, বহিরাগত ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী তাঁর সমস্যার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ২৮ জুনের মধ্যে অভিভাবকসহ হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে শর্ত অনুযায়ী কেউ দেখা করেননি। এমনকি অনাবাসিক কোনো শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত নেমেও যাননি। ওই নোটিশে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে বাধা দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আবাসিকতা পেয়েও দীর্ঘদিন হলে উঠতে না পারা শিক্ষার্থীরা তাদের বিছানাপত্র নিয়ে হলের গেইটে অবস্থান করছেন। তারা বলছেন হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে আজ সিটে তুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাদেরকে সিটে তোলা হচ্ছে না। তারা নিরূপায় হয়ে হল গেইটে অবস্থান নিয়েছেন। সিটে না তোলা পর্যন্ত তারা উঠবেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সায়েম বলেন, অনেক দিন হলো আবাসিকতা পেয়েছি। তবে সিটে উঠতে পারছিলাম না। তবে প্রাধ্যক্ষ স্যার আমাদের বলেছেন আজ তিনি সিটে তুলে দিবেন। তাই মেস ছেড়ে দিয়ে তিনটার দিকে বিছানাপত্র নিয়ে চলে এসেছি। কিন্তু দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা যাবৎ বসে থেকেও এখন অবধি স্যার আমাদেরকে সিটে তুলে দেননি।

সবুজ নামে ফিশারীজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, তাকে এর আগে হলে তোলা হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গেল সিট দেওয়ার আশ^াস দিয়ে তাকে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আজ আবার তাকে হলে তুলে দেওয়ার জন্য ডাকা হলে এখন অবধি তাকে তোলা হয়নি। সিটে তোলার নামে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হল প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হলে আসেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন এবং আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। কিন্তু দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বসে থাকার পরেও যখন হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সিটে তুলতে ব্যর্থ হয় তখন তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হল ত্যাগ করেন। তারা বলেন হল প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু তারা এতক্ষণ শিক্ষার্থীদের এভাবে হয়রানি করতে পারে না। তবে তারা যদি এটি করতে পারে তাহলে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আর যদি করতে না পারে তাহলে আমাদের বিশ^বিদ্যালয় আরও এক ধাপ পিছিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, বর্তমান প্রভোস্ট স্যার সাবেক ছাত্রদল নেতা। তিনি এই হলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে বিরুদ্ধাচারণ করছে। তিনি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হলের আবাসিকতা দেন না। অন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা দিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের এক কর্মীর জন্য আমি সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু প্রভোস্ট স্যার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কর্মী শুনে তাকে আবাসিকতা দেননি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রভোস্ট স্যার হলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ছাত্রলীগ নিধন করে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মিশনে নেমেছে। তবে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় কোনো কর্মীকে নামতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো কর্মীকে নামাতে হয় তবে আমাকে বহিষ্কার করেই নামাতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
স্মার্ট গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি স্মার্ট খামারি গড়ে তুলতে হবে: বাকৃবি উপাচার্য সিলেট ও নাটোরের দুই ছাত্রীর বিয়ে নিয়ে তোলপাড় ভূরুঙ্গামারীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে নৈশ কোচের ধাক্কায় প্রাণ গেল হেলপারের শরণখোলায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষনের শিকার এবার পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে আরকান আর্মির ৫ সদস্য লালমোহনে আমের মুকুলের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে বাগানগুলো অসামাজিক কার্যক্রম চালানোর দায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বোনসহ আটক ৪ কিশোরগঞ্জে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশলীদের সম্প্রসারণ মাঠ সফর গাজীপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কয়েক ঘন্টা পরই ফের দখল নরসিংদীতে বাস-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষ, ২ চালক নিহত ভারতীয় যুবক কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পালকিতে বর-কনে, গরুর গাড়িতে বরযাত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আমীর খসরু বললেন ‘কিছুই বলার নেই’ বড় দুঃসংবাদ পেল ইমরান খানের পিটিআই গাজীপুরে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ৩৮ বছর পর বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের রেকর্ড ১৩ বছর পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না, র‍্যাবের হাতে ধরা তানোরে আলুর দাম নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা মহাসড়কে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান টেকনাফে হোয়াইক্যংয়ে এক দিন মজুরকে পিঠিয়ে হত্যা