ভোটাধিকার আইন ও অনুশীলন

একটি গণতান্ত্রিক দেশের সরকার নির্বাচনের মাধ্যম হলো নির্বাচন। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল নির্বাচনের প্রাণ বলা হয় ভোটারদেরকে। একারণে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব হলো নির্বাচনে ভোট প্রদান করা। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বয়স অবশ্যই ১৮(আঠারো) বছর হতে হবে। কিন্তু একজন ভোটার ভোট প্রদানের যোগ্য হলেও অকালের বাদলে ভঙ্গুর হতে পারে ভোটাধিকার। সম্পূর্ণ আলোচনায় থাকছে এই বিষয় নিয়েই।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। উক্ত নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হয়েছিল। শতাংশের হিসেবে সেটা ৮৭-তে পৌঁছে যায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় ভোট প্রদান অর্ধেকেরও কম হয়; প্রায় ৩৯ শতাংশ।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। এসব পরিসংখ্যানে বিভিন্ন সময়ে ভোটারগণের ভোট প্রদানে অনিহা প্রকাশ পেয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান কিংবা কোনো আইনে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোট প্রয়োগ হওয়ার বাধ্যবাদকতা নেই সেহেতু এক শতাংশ ভোট প্রয়োগ হলেও সরকার গঠন করতে বাধা থাকে না। আবার ভোটারগণের উপর ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক নয় বলে তারাও অনেক সময় তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না। এজন্য এটা মনে করা হয় যে, নাগরিকের মূল্যবান ভোটের অবমূল্যায়ন হচ্ছে। তবে বিশ্বে কিছু কিছু দেশ আছে, যারা তাদের নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাধ্য করেছে। যেমন : অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। তাদের দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যাইহোক, এবার একটু আইনের দিকে যাওয়া যাক।

বিজ্ঞাপন

ল্যাটিন ভাষায় চমৎকার দুটি পরিভাষায় আছে: ‘ড্যামনো সাইন ইনজুরিয়া’ এবং ‘ইনজুরিয়া সাইন ড্যামনো’ । বাংলায় বললে, ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আইনগত অধিকার ভঙ্গ হয়নি এবং আইনগত অধিকার ভঙ্গের কারণে ক্ষতি হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় আইন বিভাগে যারা প্রথমবর্ষ অতিক্রম করেছে তারা এবিষয়ে খুব ভালো জেনে থাকে। দুটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে চেষ্টা করি।

ধরা যাক, একটি বাজারে একমাত্র আলু বিক্রেতা ব্যাবসায়ী তালিব। তার ব্যাবসা ভালো চলছে দেখে তার বন্ধু একই বাজারে আরও কম দামে আলু বিক্রি শুরু করল। এতে তালিবের ব্যাবসার পরিসরে ক্ষতি হলো। এই ধরনের ক্ষতি আইনগত নয়। কারণ এই ধরনের ক্ষতি আইনে উল্লেখ নেই। ১৪১০ সালে গ্লাউসস্টার গ্রামার স্কুলের লিটিজেগেশানের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই নীতি। অপরদিকে, ভোটকেন্দ্রে ভোটারকে ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া কিংবা ভোট প্রদান করতে বাধ্য করা হলে আইনগত অধিকার ভঙ্গ করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। কারণ আইনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা কিংবা না করার কথা উল্লেখ আছে।

মজার ব্যাপার হলো, ১৭০৩ সালের একটি বিখ্যাত লিটিগেশানে দেখা যায় যে, রিটার্নিং কর্মকর্তার দ্বারা বাদী পক্ষ ভোট প্রদানে বাধাপ্রাপ্ত হোন। কিন্তু যাকে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন, সে নির্বাচনে জয়ী করে। অধিকন্তু, আদালত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জরিমানা করে।

বিজ্ঞাপন

কিছু আইনের কয়েকটি ধারাতে ভোটাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে। একটি হলো ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং অন্যটি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ৮২ ও ৮৪ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার কিংবা নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত অন্য কোনো কর্মকর্তা, করণিক বা পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য কর্তৃক কোনো ভোটার ভোট প্রদানে বাধাপ্রাপ্ত হলে অথবা প্ররোচিত হলে অথবা নিবৃত্ত হলে কমপক্ষে এক বছর এবং অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন (ধারা ৮২-এর ক্ষেত্রে), এবং অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন (ধারা ৮৪-এর ক্ষেত্রে)।

দণ্ডবিধির ধারা ১৭১ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো ভোটারকে যদি হুমকি, বিশ্বাস করায় বা বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করে যে, তিনি বিধাতার রোষে পতিত হবেন আধ্যাত্মিক নিন্দাভাজন হবেন তাহলে তিনি দণ্ডনীয় অপরাধ করছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। এরূপ অপরাধের জন এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এছাড়াও নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য আইন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত নির্বাচনি বিধিমালাতে ভোটাধিকার রক্ষিত থাকতে পারে।

আলামিন আহামেদ
শিক্ষার্থী
আইন বিচার বিভাগ,
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শীর্ষ সংবাদ:
মাদারীপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৫ বোনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ভাই নিহত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন পাইকগাছায় সরকারি জমিতে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা, হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব শরণখোলায় একুশের বই মেলায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন দুই যুগের যাত্রী হয়রানির অবসান করলেন দুই সংসদ সদস্য শিক্ষক হেনস্থার: পবিপ্রবিতে ত্রি-মুখী আন্দোলনে উত্তাল ক্যাম্পাস মায়ের জানাজায় অংশ নিতে দেশে ফিরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ জনের স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা রোজার আগে সরকারিভাবেই চিনির দাম বাড়ল কেজিতে ২০ টাকা চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া প্রদান করা যাবে না: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঝিনাইদহে রাতে- দিনে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির রমরমা ব্যবসা, নিরব ভুমিকায় প্রশাসন হুমকির মুখে বাংলা ভাষা প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু: দুই চিকিৎসককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের পথ দিয়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: বাংলা ও নিজস্ব বর্ণমালা নিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বকশীগঞ্জে দুই মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১ বাকৃবিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বাস-ট্রলিতে সংঘর্ষে বাড়িতে ঢুকল বাস, নিহত ২, আহত ১০