শারীরিক শিক্ষা কেবল দৈহিক নয়

রাজধানী টাইমসের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শারীরিক শিক্ষা কেবল দৈহিক নয়, শারীরিক শিক্ষা সাধারণ শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষার সফলতা বা কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শারীরিক শিক্ষাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক শিক্ষা মানুষের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক গুণাবলি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোকপাত করে। একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে অত্যাবশ্যকীয় ভুমিকা পালন করে। আমরা জানি, দেহ ও মনের সম্পর্ক একান্ত ঘনিষ্ট। বর্তমান সময়ে শারীরিক শিক্ষা ছাড়া সাধারণ অসম্পূর্ণ, অপূর্ণাঙ্গ। A sound mind lives in a sound body (সুস্থ দেহে সুন্দর মন)-এই প্রাচীন প্রবাদটি যুগ যুগান্তর থেকে সত্য বলে প্রমাণিত হয়ে আসছে।

আজকাল শারীরিক শিক্ষা বলতে শারীরিক উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক গুণাবলি অর্জনকে বুঝায়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন শারীরিক শিক্ষায় নতুন নতুন গবেষণায় ব্যস্ত, নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দেশের শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলাকে এগিয়ে নিচ্ছে, দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে আমরা তখন ঠিক তার উল্টো পথে। আমাদের শিক্ষা কারিকুলামে নামেমাত্র অন্তর্ভুক্ত করছি। যা আগামী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য চাই স্মার্ট মানুষ, স্মাট শিক্ষা ব্যবস্থা। শারীরিক শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা কারিকুলামে নিয়মিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন কতটা সফল হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। শারীরিক শিক্ষাবিদদের মতামত থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্য সাধারণ শিক্ষার মতোই ব্যক্তিসত্তার সর্বোচ্চ ও সুষম বিকাশ সাধন করে থাকে এবং পরিকল্পিতভাবে খেলাধুলা পারদর্শিতা অর্জনে সাহায্য করে। শারীরিক শিক্ষা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যে সকল গুণাবলী অর্জন করতে পারে-খেলাধুলার নিয়মকানুন মেনে ভালো করে খেলতে পারা।কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করা। স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বয় সাধনে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা। দেহ ও মনের সুষম উন্নতি করা। সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করা।সহিষ্ণুতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করা। উপস্থিত চিন্তাধারার বিকাশ সাধন । নৈতিকতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন। সেবা ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়া। বিভিন্ন দলের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে উঠা। আনুগত্যবোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পাওয়া। খেলাধুলার মাধ্যমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হওয়া।

খেলোয়াড়ি ও বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব গড়ে উঠা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব গড়ে উঠা।আত্মসংযমী হওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অর্জন ও সামাজিক গুণাবলি অর্জন করা। বিনোদনের সাথে অবসর সময় কাটানোর উপায় জানা। সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা । সর্বোপরি তারা দেশপ্রেমে জাগ্রত হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ থেকে ৮ তম গ্রেডের জন্য একটি DPA নীতি প্রয়োগ করে৷ সরকার আরও চায় যে ১ থেকে ৮তম গ্রেডের সমস্ত শিক্ষার্থী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রদের সহ শিক্ষার সময় প্রতিটি স্কুল দিনে টেকসই, মাঝারি থেকে জোরালো শারীরিক কার্যকলাপের ন্যূনতম বিশ মিনিটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর স্পোর্ট অ্যান্ড ফিজিক্যাল এডুকেশন (শেপ আমেরিকার অংশ) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০১২ সালের “শেপ অফ দ্য নেশন রিপোর্ট” দেখা গেছে যে প্রায় ৭৫% রাজ্যে উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়, অর্ধেকেরও বেশি রাজ্যগুলি ছাত্রদের তাদের প্রয়োজনীয় শারীরিক শিক্ষা ক্রেডিট এর জন্য অন্যান্য ক্রিয়াকলাপগুলিকে প্রতিস্থাপন করার অনুমতি দেয়, অথবা অন্যথায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্দেশমূলক সময় বাধ্যতামূলক করতে ব্যর্থ হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র ছয়টি রাজ্যে (ইলিনয়, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, নিউ ইয়র্ক এবং ভার্মন্ট) প্রতিটি গ্রেড স্তরে শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। ২০১৬সালে বেশিরভাগ রাজ্যের [পরিমাণ করা] নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্দেশমূলক সময়ের প্রয়োজন ছিল না এবং অর্ধেকেরও বেশি ছাড় বা প্রতিস্থাপনের অনুমতি দেয়। এই ত্রুটিগুলি শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রমের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। জিরো আওয়ার হল একটি প্রাক-বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার ক্লাস যা প্রথমে নেপারভিল সেন্ট্রাল হাই স্কুল দ্বারা প্রয়োগ করা হয়। ইলিনয় রাজ্যে, এই প্রোগ্রামটি লার্নিং রেডিনেস P.E. (এলআরপিই)। প্রোগ্রামটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে ফিট তারা একাডেমিকভাবে আরও সতর্ক, মস্তিষ্কের কোষগুলির বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে উন্নতির অভিজ্ঞতা অর্জন করে। NCHS জোড়া একটি P.E. ক্লাস যা কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম, মূল শক্তি প্রশিক্ষণ, ক্রস-পার্শ্বিক আন্দোলন, সেইসাথে সাক্ষরতা এবং গণিত কৌশলগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে যা শেখার উন্নতি করে এবং কৃতিত্বকে উন্নত করে।

শারীরিক শিক্ষা শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় হতে প্রস্তুত করে। এটি তাদের শারীরিকভাবে ফিট হতে এবং জীবনের জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে সক্ষম করে। শারীরিক শিক্ষা হল K-12 স্তরের শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে জানার জন্য একটি ক্লাস। এটি গুরুত্বপূর্ণ যাতে শিক্ষার্থীরা সুস্থতা সম্পর্কিত বিষয়গুলি, ফিটনেস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত বিষয়গুলি সহ শিখতে পারে৷ একটি কার্যকর শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত আকর্ষণীয় পাঠ, প্রশিক্ষিত P.E. শিক্ষক, এবং নির্দেশের জন্য পর্যাপ্ত সময়। এটি শিক্ষার্থীদের ফিটনেস এবং সুস্থতার বিষয় সম্পর্কে শেখানো উচিত, যেমন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, সুস্থতা, এবং আন্দোলনের দক্ষতা। পাঠগুলি আকর্ষক হওয়া উচিত যাতে শিক্ষার্থীরা উপাদানটি বুঝতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়াকলাপ এবং গেমগুলিতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে, শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ খুঁজে পেতে এবং ফিটনেস এবং সুস্থতার বিষয়ে তাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে পারে। শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম সারা বিশ্বে পরিবর্তিত হয়। সঠিকভাবে শেখানো হলে, P.E. ক্লাস ছাত্রদের স্বাস্থ্য, আচরণ, এবং একাডেমিক কর্মক্ষমতা উপর ইতিবাচক প্রভাব উত্পাদন করতে পারে। এর অংশ হিসাবে, স্বাস্থ্য শিক্ষা হল রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিত্সা সম্পর্কিত তথ্যের শিক্ষা। এটি শারীরিক শিক্ষা, বা P.H.E এর সাথে পড়ানো হয়। অল্পের জন্য.অনেক শারীরিক শিক্ষা ক্লাস তাদের শিক্ষার্থীদের কার্যকর ব্যায়ামে সহায়তা করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের এবং জনপ্রিয় সরঞ্জামগুলির মধ্যে একটি হল একটি সাধারণ ভিডিও রেকর্ডার। এটির সাহায্যে, শিক্ষার্থীরা নিজেদের রেকর্ড করে, এবং প্লেব্যাক করার সময়, তারা নিক্ষেপ বা দোলনার মতো কার্যকলাপে যে ভুলগুলো করছে তা দেখতে পারে। অধ্যয়নগুলি দেখায় যে ছাত্ররা এটিকে আরও কার্যকর বলে মনে করে যে কেউ তারা কী ভুল করছে তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে এবং তারপরে এটি সংশোধন করার চেষ্টা করে।

শারীরিক শিক্ষা শারীরিক কার্যকলাপ এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য মোটর দক্ষতা, জ্ঞান এবং আচরণ বিকাশের জন্য ডিজাইন করা জ্ঞানীয় বিষয়বস্তু এবং নির্দেশনা প্রদান করে। শারীরিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্কুল বয়সই একমাত্র সময় যেখানে শিক্ষার্থীরা সর্বোত্তম শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও, সমাজ নিশ্চিত যে শারীরিক কার্যকলাপের গুরুত্ব সম্পর্কে বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছানো যেতে পারে। একবার এটি জানা হয়ে গেলে, এটির প্রতিক্রিয়াগুলি আপনার সারা জীবনের জন্য আপনার স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োগ করা হবে। শারীরিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি রোগ, খারাপ অনুভূতি, ডাক্তারের কাছে যেতে এবং ওষুধ বা হাসপাতালে প্রতিরোধ করে। শারীরিক কার্যকলাপ স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য সমস্ত রোগ দূরে রাখে। জিনিসগুলির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা দেয়। এটি এমনভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে যে যদিও আমি একটি গোল করিনি বা একটি ঝুড়ি অর্জন করিনি।

বিজ্ঞাপন

আমি আকর্ষণীয় কিছু করতে পেরেছি। শারীরিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একবিংশ শতাব্দীর নাগরিককে দলগতভাবে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করে। এটি ক্রস-কাটিং থিমগুলির বিকাশের অনুমতি দেয়। এগুলি যৌথভাবে পাঠ্যক্রমের অনেক ক্ষেত্রকে সম্বোধন করছে। দক্ষতার উপর কাজ করা এবং উন্নতি করা এখন খুবই সাধারণ ব্যাপার। এটি মূল্যবোধে শিক্ষা দেয়। এটা শেখায় যে অন্যদের গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটি একটি দলের মধ্যে প্রত্যেকের প্রচেষ্টা চিনতে সাহায্য করে। যখন উপভোগ করা এবং ভালো সময় কাটানোর কথা আসে তখন লোকেরা মূল্য দেয় এবং প্রত্যেকের গুরুত্ব স্বীকার করে। অন্যান্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়ের তুলনায়, এটি অনেক সহজ এবং খেলাধুলার মতো মজাদার কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করে। যে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলায় জড়িত, তারা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং পেশাগতভাবে দক্ষ হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। শারীরিক শিক্ষা এমন দক্ষতা তৈরি করে যা মানুষের জীবনে বিকশিত হয়। এটি পরিবেশের অবস্থার উপর নির্ভর করে কী করতে হবে, কীভাবে এটি করতে হবে, কখন এবং কার সাথে করতে হবে তা জানার বুদ্ধি বিকাশ করে। শারীরিক শিক্ষা হল শারীরিক শক্তি এবং তার জ্ঞানের বিষয়। এই বিষয়ের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক কৌশল অধ্যয়ন করতে পারে। এই কৌশলগুলি খেলাধুলার সময় ব্যবহার করা যেতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনের রুটিনে সহায়ক হতে পারে।

কয়েক বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয় পাঠ্যসুচির অন্তর্ভুক্ত করা হলেও উচ্চ মাধ্যমিক তথা কলেজ পর্যায়ে বিষয়টি আজও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। মজার বিষয় এই যে, বিদ্যমান জনবল কাঠামো অনুসারে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি কলেজে একটি করে শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ রয়েছে। প্রায় সব কলেজে ‘শরীরচর্চা শিক্ষক’ হিসেবে একজন করে শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাদের পড়ানোর জন্য শারীরিক শিক্ষা বা এ জাতীয় কোনো বিষয় কিংবা পাঠ্যবই নেই। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় চার হাজার কলেজে একজন করে শরীরচর্চা শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের পড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় কিংবা বই নেই। এটি আমার বোধগম্য নয় যে, প্রায় কলেজে একজন করে শরীরচর্চা শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শারীরিক শিক্ষা নামের কোনো পাঠ্যবই নেই কেনো ? কলেজ পর্যায়ে শরীরচর্চা শিক্ষক পদ থাকলে তাদেরকে অশিক্ষক পদমর্যাদা দেওয়া হয়। যা একজন শিক্ষকের জন্য রীতিমত অপমানজনক এবং জাতির জন্যও লজ্জাজনক। কলেজ পর্যায়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানি। অর্থাৎ কলেজে যে সকল বিষয় পঠিত হয়, সে সকল বিষয়ের বিপরীতে শিক্ষক নেয়া হয়। কিন্তু, কোনো বিষয় ছাড়াই কলেজে শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি কিছুতেই বোধগম্য নয়। কেবল খেলাধুলার জন্য কী শরীরচর্চা শিক্ষক অপরিহার্য ? সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ মিলে কয়েক হাজার শরীরচর্চা শিক্ষক একান্ত মনের কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। তারা ক্লাসে যেতে চান। ক্লাস করাতে চান। ক্লাস ও পাঠ্যবই না থাকায় তাদের বেশিরভাগ অলস সময় কাটাতে হয়। ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, জাপান, আমেরিকাসহ প্রায় সকল দেশে কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি পাঠ্যসুচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শারীরিক বিকাশের সাথে মানসিক বিকাশও অপরিহার্য একটি বিষয়। এই উভয় রকমের বিকাশ সাধনের জন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা গ্রহণও একান্ত প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের জন্য কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা চালু করা এখন সময়ের দাবি। শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে মনীষি সি.এ বুচার বলেছেন, ” শারীরিক শিক্ষা, শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শারীরিক শিক্ষা হলো সুনির্দিষ্ট শারীরিক কাজকর্মের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক, আবেগিক এবং সামাজিক দিক দিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা।” অন্য আরেকজন মনীষি জে.বি ন্যাশ বলেছেন, ” শারীরিক শিক্ষা গোটা শিক্ষার এমন একটি দিক যা মাংসপেশির সঠিক সঞ্চালন ও এর প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবে ব্যক্তির দেহের ও স্বভাবের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধন করে।” সামগ্রিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, শারীরিক শিক্ষার মুল কথা হলো দেহ ও মনের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুষম উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ সাধন, সামাজিক গুণাবলি অর্জন ও খেলাধুলার মাধ্যমে চিত্তবিনোদন। এক কথায়, আজকের শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শারীরিক শিক্ষা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই, কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া একান্ত দরকার।

আশা করি, দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা কারিকুলামে কলেজ পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষাকে চালু শিক্ষা ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশের জনগণের এবং কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষকদের মৌলিক দাবিটি এ বছরেই পূরণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। কলেজের ক্রীড়া উন্নয়নে শারীরিক শিক্ষা পাঠক্রম চালু ও শরীরচর্চা শিক্ষকদের পেশাগত বৈষম্য অবসানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলা-বঞ্চনার অবসান ঘটানো হোক। শারীরিক শিক্ষা শুধু দৈহিক শিক্ষা নয়, এটি একটি আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর্যাদাপূর্ণ সার্বিক শিক্ষা।

 

সুধীর বরণ মাঝি , শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, হাইমচর, চাঁদপুর।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল rajdhanitimes24.com এ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয়- মতামত, সাহিত্য, ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার ছবিসহ লেখাটি পাঠিয়ে দিন rajdhanitimes24@gmail.com  এই ঠিকানায়।

শীর্ষ সংবাদ:
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকারের পদত্যাগ ছদ্মবেশে পালিয়ে ছিলো ২১ বছর, অবশেষে ধরা ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী বাবা হারালেন অভিনেত্রী পপি ফরিদপুরে মেলায় অশ্লীল নৃত্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫ বাকৃবিতে নবীনদের বরণ করে নিলো হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সালথার জয়ঝাপ প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ১ বছরে ব্রীজ নির্মান শেষ করার কথা থাকলেও শেষ হয়নি ৫ বছরেও আগামীকাল শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগুনে পুড়ে আমার সব শেষ অইয়া গেছে কিছু নাই আর বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব, দিন হবে রাতের মতো অন্ধকার! যশোরে যজ্ঞানুষ্ঠানে ভোগের খাবার নিয়ে কথাকাটাতে কিশোর খুন সংরক্ষিত আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন ৫০ নারী গাজীপুরে তুলার গোডাউনে আগুন দুমকিতে উন্নয়ন বঞ্চিতদের কার্পেটিং সড়ক দাবিতে মানববন্ধন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ ফরিদপুরে সরকারী এম এন একাডেমী ২০০২ ব্যাচ এর মিলনমেলা অনুষ্ঠিত টেকনাফে দিন মজুর হত্যার বিচার চেয়ে, সড়কে লাশ রেখে মানববন্ধন পিলখানা হত্যাকান্ডের ১৫ বছর: কাউখালীবাসী ভুলেনি কর্নেল কাজী এমদাদকে মতলব উত্তরে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডের লাশ উদ্ধার গণবর্জিত ডামি নির্বাচনের পর দেশ এক গভীর সংকটে পতিত হয়েছে: রিজভী